তখন আর এখন

তখন আর এখন

তখন আমার বয়স ছিল উনিশ-কুড়ি। সবে উচ্চ মাধ্যমিকের চৌহদ্দি পেরিয়ে শিক্ষাজীবনের পরবর্তী অধ্যায় শুরু করেছি। বয়সজনিত সরলতায় আমার উচ্ছ্বলতা তখন আকাশছোঁয়া। নতুন পাওয়া বন্ধুদের মধ্যে আদর ছেলেটাকে ভাল লাগতো। কিন্তু অবচেতন মনেও তাকে ভবিষ্যত জীবনের সঙ্গী হিসেবে ভাবিনি কখনো। একে বয়সে ছোট, তাছাড়া তখনি প্রেমে জড়ানোর ইচ্ছেও ছিল না তেমন। তবে এর বিপরীতে আবার নিঃসঙ্গতাও ছিল মনের ভেতর। উচ্চ মাধ্যমিকের সময় সরল কিছু ভুলের ভীষণ জটিল বিচারের কারণে তখন আমি সমাজের চোখে সর্বস্বান্ত ছিলাম। তখন মনে হতো, জীবনে কেউ কোনদিন ভালবাসবে না আর। আবার আশাও ছিল, হয়তো কেউ সমাজের সেই একচোখা বিচারের অগভীর কলংকের কুঁয়াশা তাড়িয়ে আমার আসল চেহারাটা দেখবে; কেউ আমাকেও ভালবাসবে আবার।

 

নতুন শিক্ষাজীবনের তৃতীয় মাসেই বার্ষিক বনভোজনের তারিখ ঠিক হয়েছিল। ব্যাচের সবার সাথে আমি আর আদরও গিয়েছিলাম। সেই বনভোজনের প্রস্তুতির সময় তোমাকে প্রথম দেখি; কি নিপুন, দক্ষ হাতে পুরো আয়োজনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলে তখন তুমি। সাংগঠনিক কাজ আমার ভীষণ ভাল লাগতো। কখন যেন নিজের অজান্তেই তোমার মত সংগঠক হবার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলাম। সেই স্বপ্নটাই সম্ভবতঃ তখন তোমার কাছ থেকে, তোমার মত হওয়াটা শিখতে আমায় অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। আনমনেই তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আগামী চারটা বছর আমি তোমার মত হবার চেষ্টাই করে যাবো। অতীতের ভুলগুলোর কারণে তছনছ হয়ে যাওয়া জীবনটাকে তোমার কাছ থেকে শেখা সেই সাংগঠনিক দক্ষতায় গুছিয়ে নেবার আশায় তখন আমি বেঁচে থাকার নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছিলাম।

 

সেই বনভোজনে যাওয়ার সময় এবং ফেরার পথেই আমার জীবনের মোড় আরেকবার ঘুরে যাওয়া শুরু করেছিল। যতবার বাসচালকের মাথার ওপরে থাকা আয়নাটায় চোখ পড়েছে ততবারই দেখেছি, তুমি আমাকে দেখছো। প্রথম দিকে মনে হয়েছে হয়তো কাকতালীয়ভাবেই আয়নাতে চোখে চোখ রাখছো তুমি। কিন্তু একটা পর্যায়ে বুঝতে পারলাম, না, তুমি আমাকেই দেখছো। আমার চেহারায় তখন অবাক বিস্ময় আর আরক্ত লজ্জার লুকোচুরি খেলা শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার আড়ালে হতবাক হয়ে ভাবছিলাম, আমার মাঝে কী দেখছে তোমার মত একজন সুদর্শন, মেধাবী এবং সম্ভাবনাময় পুরুষ! তুমি কি আমার অতীতের কলংক-গ্লানির কথা জানো? তখন জানতে ইচ্ছে হয়েছিল, তোমাকে সেই বিচারের রায়গুলো জানাবার পরেও কি এইভাবেই আমাকে দেখবে তুমি। আবোল-তাবোল ভাবছি ভেবে যতবারই মনকে শাসন করে আয়নায় চোখ রেখেছি, ততবারই দেখেছি তুমি স্নিগ্ধ হাসিমাখা চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছো। কি আজব ব্যাপার! কী দেখছো তুমি? আমাকে জানাবে একবার? আমি তবে নিজের মাঝেও সেটা দেখে একটা অবলম্বন খুঁজে পেতাম, বেঁচে থাকার।

 

শহরে ফিরতে ফিরতে রাত নয়টার বেশী বেজে গিয়েছিল। বাস থেকে নামার পর বিদায় নেবার সময় তুমি জানতে চেয়েছিলে, “বাসায় ফিরতে সমস্যা হবে না তো? হলে বলো, আদরকে বলি তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিতে!”

 – “না, স্যার, সমস্যা হবে না। আমি পারবো।” আমি সলজ্জ উত্তর দিয়েছিলাম। আদরের সাথে আমার আগেই কথা হয়েছিল, ও আমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে নিজের বাসায় যাবে।

– “তোমার বাসা কোথায়?” তুমি জানতে চেয়েছিলে।

– “ধানমণ্ডি, স্যার।”

– “ওহহো, আদরের বাসা তো গাবতলী। আমিও তো ধানমণ্ডিতেই থাকি। একটু অপেক্ষা করলে আমার সাথেও যেতে পারো।”

– “না, না স্যার! আমি পারবো।” চকিত উত্তর দিয়ে মনে মনে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলাম, ভাগ্যিস  কার্টুনের মত বাস্তব জীবনে মানুষের চোখ দু’টো কখনো কখনো বৃত্তাকার থেকে উল্টানো পান পাতার আকৃতি ধারণ করে না। 

– “আচ্ছা, পৌঁছে তবে জানিও। আমার ফোন নম্বর আছে তো?”

– “জ্বী স্যার আছে। এখন আসি, দোয়া রাখবেন।”

– “ফি আমানিল্লাহ।” তুমি দোয়া করেছিলে।

আমার আলসে মন ভাবছিল, এমন একজন ধর্মপরায়ন, যত্নশীল মানুষ যদি আমার জীবনের দায়িত্ব নিতে চাইতো, তবে আর কষ্ট করে নিজেকে সেটা গোছানোর পরিশ্রম করতে হতো না। তোমার মত একটা সন্তান বড় করার সুযোগ পেতাম।  

 

গেটের বাইরে আদর তার বাইকে ওঠার সময় জানতে চেয়েছিল, “রিকশা খুঁজে নিতে পারবি, না কাউকে বলবো, খুঁজে দিতে?”

– “মানে? তুই পৌঁছে দিবি না!”

– “না, মানে স্যারকে তো বললি না, যে আমার সাথে কথা হয়েছে তোকে পৌঁছে দিবো।”

– “আদর! ফাতরামি করবি না। স্যার যদি ভাবে আমি তোর সাথে প্রেম করি!”

– “ও, আচ্ছা! আর এখন বাইকে উঠে যেতে দেখলে যদি সেই কথাই ভাবে?”

– “তুই এত জটিল কেন? দরকার নাই আমাকে পৌঁছে দেবার। তুই যা তোর মত।” এইটুকু বলে আমি আদরের সামনেই ধানমণ্ডি রিকশা ঠিক করে চলে গিয়েছিলাম। আর পরের যে কটা বছর সহপাঠী ছিলাম, এই ঘটনাটা নিয়ে আর কোন কথা বলেনি আদর।

 

আমিও আদরকে বলিনি তখন, সেই রাতে অর্ধেক রাস্তা এসে আমি রিকশা ঘুরিয়ে আবারও ফিরে গিয়েছিলাম। তখন কোন জীবন-জুয়ারীর প্রেতাত্মা মনে হয় আমার ঘাড়ে সওয়ার হয়েছিল। তুমি তখনো সেখানে ছিলে। আদরের জটিল ভাবনার বিরহে চোখে অশ্রু নিয়েই তোমাকে প্রশ্ন করেছিলাম, “স্যার, বাসায় পৌঁছে দিবেন?” এরপর, পথের কোথাও আমি নিজের সব কান্নাগুলো তোমার কাধে উজাড় করে দিয়েছিলাম। আরো পরে, অন্য কোন ঘরে, নিজের শরীরটাকেও তোমার চরণে সমর্পন করেছিলাম। তারপর, তোমার বিষাক্ত নখ আর দাঁতের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হওয়া শেষে জেনেছিলাম, তোমার এখন আরো লেখাপড়া প্রয়োজন। তুমিই বলেছিলে। আমার কথা শুনবার বা শরীর কামড়াবার সময় তোমার হাতে আর ছিল না তখন।

 

কয়েক মাস পর, শেষ পর্যন্ত অনেক সাহস করে আমি শুধু সেই বনভোজনের রাতে নিজের ফিরে যাওয়া ছাড়া বাকী কথাগুলো আদরকে জানিয়েছিলাম। আদর একটু ভেবে বলেছিল, “শোন, এক হাতে তালি বাজে না। তুই সুযোগ দিয়েছিস বলেই সে ঐ কাজটা করার সাহস পেয়েছে। মেয়ে হিসেবে তোর আরো সংযত থাকা উচিত ছিল। যা হবার হয়ে গেছে, এখন আর বিষয়টা নিয়ে হৈ-চৈ করিস না। অকারণে একজন সম্ভাবনাময় এবং সুযোগ্য শিক্ষকের সম্মান আর ক্যারিয়ারে কলংকের দাগ পড়ে যাবে। এইটা করার কোন অধিকার নাই তোর। মেয়ে মানুষ পাত্তা দিলে পুরুষ এই কাজ করবেই। আল্লাহ এইভাবেই মানুষ সৃষ্টি করেছেন। তোর কোরআন পড়া উচিত। নিয়মিত পড়বি। না বুঝলেও, না বুঝেই পড়তে থাকবি। মন শান্ত থাকবে। নিজেকে অশ্লীলতা থেকে দূরে রাখতে পারবি। পুরুষদের উত্তেজিত করা থেকে বিরত থাকা সম্ভব হবে। বুঝেছিস?”

 

তখন সত্যিই বুঝিনি, আদর।

 

এখন আমি বুঝি। কিন্তু আদর, তুই কি জানতি না, আমিই সেই পশুটার প্রথম শিকার ছিলাম না? বা শেষ শিকারও হতে পারিনি? আমাকে লেখাপড়ার ভণ্ড অজুহাত দিয়ে সে তার পরবর্তী শিকার ধরার ফাঁদ সাজাতেই ব্যস্ত হয়েছিল। আমরাও তাকে সফল শিকারী হিসেবেই টিকে থাকার সুযোগ দিয়েছিলাম। এখন তাই জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে হয়, “আদর, শুধু নারীই কি পুরুষকে উত্তেজিত, সম্মোহিত করে? না কোন পুরুষের মায়ায় সম্মোহিত হলে তার দায়টুকুও নারীর ওপরেই বর্তায়? এখন আমি জানি, সেই রাতে আমার ফিরে যাওয়ার ইচ্ছেটার পেছনে সারাদিন আমার চোখের সাথে ঐ পশুটার খেলা করার বড় ভূমিকা ছিল। না কি বাইশেই আমার আঠাশের মত বিচক্ষণ হওয়া উচিত ছিল, আদর, নারী হবার অপরাধে? সেই দিন কি তুই পুরুষ হয়ে আরেক পুরুষের পক্ষে দাঁড়িয়ে অবচেতন মনে নিজের বীর্য ছেটানোর পথটাই পরিষ্কার রেখেছিলি?”

 

এখন আর তোকে এই প্রশ্নগুলো করার সুযোগ নাই। তুই এখন বঙ্গোপসাগরের কোণায় সম্মান নামক মূর্তির উপাসনায় ব্যস্ত। আমি প্রশান্ত মহাসাগরের কোলে, মানুষের গান গাই। কিন্তু এখন আমি জানি, সেইদিন তোর আর আমার নীরব থাকায় দরবেশগুলোর পশুত্বটাই নরমাংসের ভোজে হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে আরো। তাই আর চুপ থাকবো না, আদর!

 

এখন আমি একাই বলবো! 


#MeToo

6 Years of Blogging: A Flashback

6 Years of Blogging: A Flashback

In the afternoon WordPress wished me a happy anniversary through its notifications menu. I realized six years ago on 4th August 2010 I started posting my works to this blog. The floodgates of nostalgia were flung wide open as memories rushed in and overflowed my consciousness. So many things happened over the course of these years. Things that were both significant and trivial, sad and delightful, glorious and humbling. In brief, the journey has been and still continues to be almost as adventitious as life itself. A few of those found a place in some of the posts but most remained buried in a faraway island that I call my heart, an island that owns nothing but is owned by nothing either.
 

Anyways, the year was 2010 and in March that year I seemed to have finally settled down in a career after some jumping around. Though I was writing in English for four years by then, it was all limited to my personal diaries. With both my personal and professional life in complete disarray, I could hardly think of the luxury of sharing my words with the world. Of course the quality was at best elementary, if not outright questionable as well. However, once the job security was there I started thinking about sharing my poems. I found WordPress in August after trying a few other poetry hosting sites like poetrypoem.org. I stuck to WordPress mostly because the interface was more user friendly than the previous ones I tried.
 

So, in August 2010 I started posting to this blog and ended up publishing 86 posts in one month. Those were from all the poems I wrote in the previous four years that I found good enough to share with the world. By the end of that year I added 14 more to the tally, December being the most productive month with 8 posts. Back then one thing I liked was the way after publishing each post, WordPress encouraged me to achieve my next target of posts. I forgot the sequence of targets but most probably it was 25, 50, 75, 100… as far as I can recall the encouragement stopped after reaching 200 or 250 posts. I wonder whether that feature is still available for the newcomers or was later removed from the site.
 

Like any enterprise, the starting months were tedious with little or no return. At the end of the year, the 100 posts on the blog received 335 views in total. As the stats page in front of me shows, the number in the likes and comments columns are a meager 14 and 13 respectively and the Visitors’ tally was not available until 2012. The most viewed poem was Vow, published in October with 44 views.
 

In twelve months on 2011, I added 72 more posts and September was the most productive one with 14. For some now forgotten reasons February 2011 has been the only month so far when I did not publish a single post. Though the view count at the end of the year was a little less shameful than the previous one with 1326, the comments and likes columns continued their meager streak with 16 and 80 respectively. The most viewed poem was Life, Dreams, Memories And Me, published in March with 109 views.
 

In 2012 a further 142 posts were added and with 17 of them published in December, it was the most productive month of that year. WordPress started counting the visitors sometime in this year and at the end of it, my blog had 170 of them with 3595 views, 473 likes and 69 comments. The most viewed poem was Humayun Ahmed: The Most Popular Writer of Bangladesh with 65 views. Published in July that year, as a tribute after his death, this poem has been the most viewed piece on the blog for four consecutive years, with 279 views in 2013, 343 in 2014 and 482 in 2015. Even in the running year it is the 20th most viewed poem with 111 views. I think you can very well imagine the popularity of the person the poem is about.
 

In 2013, 158 more posts were added. At the end of the year my blog was viewed 3898 times by 1654 visitors but both comments and Likes went downhill with 39 and 159 respectively. The most viewed post was unchanged from the previous year, as you know already. The most viewed post published in that year was I’m A Tree with 44 views. It was published in May of that year and November was the most productive month with 21 posts.
 

2014 was the year I added more than 200 posts for the first time with 217 in total. According to the figures displayed on my blog, of all the months July seems to be the most productive one. However, as there was a war between Israel and Palestine in that month, I reposted a few antiwar poems written by fellow poets. Now I think it was December with 25 posts, as from the trends I can see winter is more productive for me than summer. The most viewed post written in that year was The Fire in Her Eyes with 77 views, published in September. In all 1471 visitors viewed my posts 4072 times with 1329 Likes and 120 Comments. This year is also special for me because an anthology, Nature and Human beings: Individual and Collective, of my poems was published from Amazon  in March.
 

Finally, in 2015 the stats started looking more similar to that of a newbie. I added 212 posts in that year and my blog received 10,751 views from 2993 visitors who rewarded me with 7952 likes and 785 comments. December once again was the most productive month with 40 posts published.  The most viewed poem written in that year was A Cold Goodbye, published in July with 166 views. July was also the month I resigned from my job after five and half years and decided to invest all of my time and efforts into creating contents for the world in both written and audio-visual formats.
 

This brings me back to a familiar point, having a tumultuous professional and personal life. After a year of unemployment, last month I have finally found a way to be self-employed by monetizing my creative contents on a YouTube channel @ Amit Rahman and a Blogspot page @ Amit’s Two Pennies. This way of securing sustenance has more freedom as well as self-accountability. At the same, if successful, the monetization would not only provide me with money but recognition too and that also from a wider berth of people than is available in private services. However with only 32 subscribers so far, even the minimum sustenance seems a dream as distant as the afterlife itself. The fact that almost all of the subscribers are Gmail account holders but not active YouTubers is even more disparaging. So, my dear poets and fellow bloggers, I would truly be grateful if you kindly subscribe and watch my videos. I would also urge you to return to my channel regularly if you find its contents useful or interesting. Currently I have three series in production at the channel, they are:

  • Five New Words: In this series I offer five English words with their etymologies, pronunciations, meanings and examples in each episode.

 

  • Two Pennies: In this series I offer my two pennies on history, philosophy, literature, religion, psychology, politics and current affairs.

 

  • Poems by Amit Rahman: This one consists of the readings of my poems with their texts being displayed on the screen. Of late I have also begun to include a brief context of the poem being read at the end of each episode.

 

 

Hopefully I have not dragged this too long to lose a reader halfway through. If you have made it to this far, let me not bore you anymore and end this piece by earnestly praying for your kind support and patronage towards my humble enterprise detailed above. This is my anniversary pledge to you, my readers.

Thanks a lot for your time! May you be in peace!

.

6 Minutes of Charity!

6 Minutes of Charity!

Dear fellow Poets and Bloggers

 

I am back after yet another hiatus. As I have mentioned earlier, days have become rather hectic since my decision to become a professional YouTuber. Fortunately I love to learn new things, so getting hands on experience in computer graphics and animation has not been too tedious an adventure for me. Still, I should admit, being a novice it takes me more time to animate a character on screen than it does to give it words on a page. To cut a long tale short, after about a week’s scripting, recording, animating, rendering and editing, I have finally managed to put together a 5 minutes and 40 seconds long video. It is a compilation of some basic facts about Bangladesh. I would be honored if you could give me 6 minutes of your precious time and see the production @ Episode 01: Bangladesh.
 

My YouTube channel, Amit Rahman is also online and I humbly yet insistently urge you to visit it. I wanted to name the channel ‘Two Bits’ but for that I needed to create a new gmail account as well as a new channel. Instead I decided to use the existing one and not spend time for a new account or channel’s growth of credibility, because I have run out of all sorts of sustenance. I have literally scraped all the pennies in my jar to revamp this computer to avail upgraded software products for animation and editing but ran out of it before I could purchase some necessary equipment like a semiprofessional microphone and video recorder.
 

So, please see the video, as your views will be my only source of sustenance. Also please help me to make the channel grow by clicking the subscribe button, for without your subscriptions my channel has no credibility to the rest of the world. I hope I am not asking for too much. I know this is not the Christmas season and with so much violence and bloodshed all around, I wonder how long even Christmas can keep on making people grow kinder and more charitable to each other! Nevertheless, I believe you can consider giving my channel some of your time an act of charity.
 

I hope you all shall be as supportive of my creative works @ YouTube as you have been so far on WordPress. Thank you!


 

Terrorism and Why Satan in Better

Terrorism and Why Satan in Better

Hello! I welcome you all with a heavy heart. The heaviness is primarily due to the recent atrocity in Holey Artisan Bakery in Gulshan, Bangladesh. Through international media reports from BBC, CNN or any other sources that you rely upon, I believe most of you are already familiar with the event. On 1st July a group of (6 or 7) Bangladeshi citizens, all aged in their twenties, appeared at the previously mentioned restaurant in Gulshan, the area of the capital city that is the diplomatic zone, as it holds most of the foreign embassies and other diplomatic establishments in the country and is also the fifth most secured area in the city after the office of the prime minister, the residences of the president and the prime minister and the national parliament complex.

 

 

The attack began at around 9 PM and before midnight 22 people were dead 20 of them diners, including Italian, Japanese and Indian nationals as well as an US citizen who was born in Bangladesh and 2 police officers. The rescue drive titled operation Thunder Bolt began at 5 AM on the following day and after 3 hours, 13 hostages were rescued alive with all the attackers killed. Before the mass killing of the diners took place but after the start the attack, law enforcement agencies arrested an individual who was fleeing from the scene. He was apprehended after being shot in one of his legs. He is suspected to be one of the perpetrators but could very well be a freaked out diner who was running for his life. Our honorable prime minister has declared a two-day long national mourning after blaming it on a “local-international group” to belittle the development her government has obtained for the country.

 

 

This is the whole thing in a nutshell but the trouble is, the narration starts begetting so many queries like how would the assailants managed to carry out reconnaissance or the attack in one of the most heavily guarded areas of the city and many more, which I cannot pose because we have an Information terrorism act that can be and has been used to penalize criticisms against the state or any of its endeavors. Even death is not unheard of. A very infamous example would be the murder of the journalist couple Sagor and Runi that took place 5 years ago in 2011. It has not seen the light of any trial so far, except a few involving the transfer of jurisdiction from one agency to another. You might wonder how long could a murder trial last! Well, here in another home invasion, the father of the state who was also the incumbent prime minister of the country then and the father of our premiere now, was killed. All of the family members found at the premise were also brutally murdered that day by a group of rogue army personnel. The trial for that heinous crime took more than twenty years to finish and deliver the verdict, though not until the current prime minister was elected as head of the government for the first time twenty years ago.

 

 

Not just the judiciary but the overall political culture needs to be inspected so allow me to postpone it to another episode of my two bits, provided that I live through any probable harassment for this one. Though, in brief, nationally there are two classes of people here, let me call them ‘Momentous’ and ‘Trivial’. The first kind is then subdivided into two classes, ‘Rulers’ and ‘Opposition’, while the latter consists of the subject race. However as it has been in any empire, some of the subjects are elevated by the dint of their familiarity with people from the earlier ones and marriage and other possible means. Now, the ‘Momentous’ kind rule the country for their personal gains like the accumulation of wealth (unnecessary, I would vainly argue) by managing the subjects in relatively better ways than the British or Pakistani imperialists that preceded their dynasty did or could. Obviously they are not doing so without our political ignorance, negligence and decadence. They are also internationally backed and there lies the only difference between the current ruling kinds and most of the opposing ones. The former sect is aligned with the interest of a more secular state, i.e. India, while the latter with that of an Islamist Kingdom of Saudi Arabia. The reason is more but not entirely economical than religious, as KSA is the largest labor market for the country and foreign remittance from the Middle East is one of the primary sources of our GDP. I believe for the sake of history we should prefer India and work towards an economic union and hope that India will be fair and invest in the idea that improving one’s neighbor improves oneself.

 

 

Anyways, let’s come back to the terror attack. In a string of attacks that began in Paris last year, I think more than a thousand lives have been abruptly brought to their violent ends. Yet, this one is prompting me to write this. The fact that this one happened in an area in my city, a mere 12 kilometers away from where I live (shamefully I must admit) makes it graver than the others, somehow! After wondering for the past couple of days the only reason I could come up with is the shock from my failure to prevent the atrocity. I am part of the society that bred and brought these individuals up with such diabolically perverted wills and ideas. I know I need to act but I have no idea, how, except ranting about it here!

 

 

Finally we come to my titular question on how the act of terrorism makes us worse than the worst of evil humanity has been able to imagine so far. In the Semitic religions, i.e. Judaism, Christianity and Islam the concept of pure evil is portrayed by a fallen angel called Satan but even he victimizes the mankind only. He has never been reported to terrorize his kith and kin of angels, fallen or not, let alone take their lives. But we, human beings, the supposed pinnacle of creation (!!!) have managed to put Satan to his mighty shame!

 

 

If you have managed to read this through, you have my sincerest gratitude. Thank you!


 

In Present Tense

In Present Tense
Watch and Listen to a Reading of the Poem by me.

 

Justice is a holy grail seldom found,
where the accused one is guilty as charged
until proven otherwise beyond all shreds of doubt!
Power, though, is secured from such vile threats,
as it can seldom be held accountable
for any of its’ words, actions or policies!
   

Affluence is the sole means to positions
where talent is as deep as pockets go,
unaffected by the mass or volume of the mind!
Rooking, though, is held to be as brilliant,
almost as one’s inherited properties,
starting lower but rising faster than the rich!
   

This is not history through a magnifying lens
but the very state of my world in present tense!

.